
মোহাম্মদ এরশাদ, বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বাঁশখালীর গুনাগারী এলাকার ওয়াহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক সহকর্মী বন্ধুবান্ধব ও ৭৩ জন শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশসহ ৩৫ কোটি টাকা মেরে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওয়াহিদুল ইসলাম পশ্চিম গুনাগরী এলাকার আজিজ আহমদের ছেলে। দীর্ঘ ১০ বছর বিশ্বস্ততার সহিত ব্যবসা ও লেনদেন করার পর গত কিছুদিন ধরে প্রতারণার আশ্রয় নেন ওই যুবক।
সর্বশেষ একাধিক বৈঠক শেষ চলতি জুন মাসের ১০ তারিখ সব টাকা শেয়ার হোল্ডারদের পরিশোধ করার চুড়ান্ত ডেট দেওয়া হলেও টাকা পরিশোধ না করে নানা চল-চাতুরীর আশ্রয় নেন। সর্বশেষ ২৪ জুন টাকা দেওয়ার আশ্বাস এবং মালামালের গুদাম পরিদর্শনের কথা বলে পাওনাদারদের ঢাকায় নিলে গেলেও তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেনি। পরে এক বন্ধুর মোবাইলে রেল লাইনে পড়ে সুইসাইডের হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠান। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। লাপাত্তা ওয়াহিদুল ইসলাম।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ হিসেবে জিডি করা হলেও পাওনাদাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি ওয়াহিদুল ইসলাম নিজ থেকেই লুকিয়ে আছে। অথবা বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে।
পাওনাদার গুনাগরীর শাফায়াত উল্লাহ, পুকুরিয়া চাঁনপুর এলাকার মোহাম্মদ এহসানুল হক ও চেচুরিয়া এলাকার আবু ছালেহ মুহাম্মদ ইশতিয়াক জানান, আমরা বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অধিক লাভের আশায় ব্যবসার কাজে টাকা বিনিয়োগ করেছি। সব লেনদেন ছিল তার হাতে। ১০ বছর সঠিকভাবে ব্যবসা করার পর সে এখন আমাদের টাকা না দিয়ে আত্মগোপন করেছে। সে কোথায় আছে, কিভাবে আছে তার পরিবার জানে।
আজ (২৬ জুন) সন্ধ্যায় বাঁশখালীর পুকুরিয়া চাঁনপুর এলাকায় তারা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবিলম্বে ওয়াহিদুল ইসলামের সন্ধান চান। একই সাথে সে যদি ইতিমধ্যেই বিদেশে না গিয়ে দেশে থাকে তাহলে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশ পাড়ি জমাতে না পারে তার পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
ভুক্তভোগীরা জানান, যে কোন ভাবেই আত্মগোপনে থাকা ওয়াহিদুল ইসলামের সন্ধান জরুরী। অন্যথায় আমাদের ৭৩ টি পরিবার পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।