
রাজিব মজুমদার, মীরসরাই, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তার পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহত শ্রুতি পাল (২০) ফেনী টিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিএড দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক টিটু পালের মেয়ে। পরিবার নিয়ে তিনি নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) বিকেলে শ্রুতি তার বন্ধু তানভীর হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ও রিসবী সুলতানা মোটরসাইকেল যোগে ফেনী থেকে মীরসরাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই পৌরসভার উত্তর বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে তানভীর ও শ্রুতিকে বহনকারী মোটরসাইকেলে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে শ্রুতি ও তানভীর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মীরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শ্রুতির অবস্থার অবনতি হলে তার বন্ধু তানভীর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শুভ জানান, শ্রুতির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তবে ঘটনার পর থেকেই দুর্ঘটনার বর্ণনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে পরিবার। নিহতের বাবা টিটু পাল বলেন, “আমার মেয়ের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের সন্দেহ। ঘটনার পর থেকে তার বন্ধু রিসবী সুলতানার আচরণও রহস্যজনক। একই সঙ্গে আহত তানভীরের কথাবার্তাও অসংলগ্ন মনে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার তিন মেয়ের মধ্যে শ্রুতি সবচেয়ে মেধাবী ছিল। আগামী মঙ্গলবার কুমিল্লা কেন্দ্রে তার বিএড দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা ছিল। সেদিনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন ছিল। হঠাৎ এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হোক, এটাই আমাদের দাবি।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার আগে ও পরে শ্রুতির অবস্থান, তার সঙ্গে কারা ছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি মহাসড়কে পৌঁছেছিলেন—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে হত্যার কোনো আলামত বা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এক মেধাবী শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার।