
হাফিজুর রহমান খান, কক্সবাজার:
কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের কালুফকির পাড়া এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার ( ৭ জুন) আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা উপস্থিত থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ০৯ মে ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আবদু শুকুরের বড় ছেলে কৃষক নুরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নিহত নুরুল ইসলামের সাথে তার ছোট ভাই আবদুল হাশিমের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ধান কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এসময় উপস্থিত উদ্ধারকারীদের মধ্যে স্থানীয় দিনমজুর কবির আহমদ, মঈন উদ্দিন রিজভী, দিদারুল ইসলাম সোহেল, ঈমন, বাদশা ও বজল আহমদসহ অনেকে ছিলেন বলে জানানো হয়। পরে আহত নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা সহায়তা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ১২ মে ২০২৬ তারিখে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী হাসিনা আক্তার কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং ২৫/৩১১) দায়ের করেন, যেখানে চারজনকে আসামি করা হয়। তবে উদ্ধার ও চিকিৎসায় সহায়তাকারী মঈন উদ্দিন রিজভী ও দিদারুল ইসলাম সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তাদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত একাধিক সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে তাদের মানবিক সহযোগিতার প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যেও তাদের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হবে বলে দাবি করেন বক্তারা।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের প্ররোচনায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি সকল সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তের আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, “মানবিক সহযোগিতা করার পরও যদি কাউকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়, তাহলে সমাজে কেউ আর বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে না।”
এ সময় মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের মুক্তি এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন রুবেল। তিনি জানান, মঈন উদ্দিন রিজভী ও দিদারুল ইসলাম সোহেলের পরিবার বর্তমানে মামলার কারণে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।