
রাজিব মজুমদার, মীরসরাই, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বসতভিটার জায়গা ভরাটের জন্য পাহাড়ের মাটি কাটতে গিয়ে পাহাড়ধসে মো. সায়েম (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল রানা নামে আরেক কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (১৭ জুন) রাত আটটার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের গেড়ামারা এলাকার বড়থলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সায়েম ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া এলাকার মৃত বশর আহমেদের ছেলে। প্রায় এক মাস আগে মা ছালেহা বেগম ও বোনকে নিয়ে বড়থলি এলাকায় বসবাস শুরু করে সে। এর আগে ছয় থেকে সাত মাস আগে টিলার পাদদেশে জায়গা কিনে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবারটি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিজের বসতভিটার জায়গা উঁচু করার জন্য কয়েক দিন ধরে ঘরের পাশের পাহাড় থেকে মাটি কাটছিল সায়েম। বুধবার রাতে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়লে সায়েম ও সোহেল রানা মাটিচাপা পড়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় দুজনকে মাটির নিচ থেকে বের করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, টিলার পাশেই ছোট একটি টিনের ঘরে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন সায়েমের মা ছালেহা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংসারের প্রয়োজনে সায়েম দিনমজুরের কাজ করত। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই তার কাঁধে এসে পড়ে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড় কেটে বসতভিটার জায়গা সমতল করার সময় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। সচেতনতার অভাব ও প্রয়োজনের তাগিদে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এমন কাজ করেন, যার পরিণতিতে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।