
বাঁশখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোকদণ্ডী গুনাগরী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক নজরুল ইসলাম। তাঁর পুনর্নির্বাচনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
প্রথম মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন নজরুল ইসলাম। তাঁর সময়কালে বিদ্যালয়ের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ, শ্রেণিকক্ষে নতুন লাইট, ফ্যান ও আধুনিক হোয়াইট বোর্ড স্থাপন করা হয়। শিক্ষকদের সুবিধার্থে শিক্ষক মিলনায়তনে স্থাপন করা হয় আইপিএস।
এ ছাড়া তাঁর প্রথম মেয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ। কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশের প্রভাব ছাড়াই যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
তবে স্থানীয় কিছু জটিলতার কারণে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি বাস্তবায়নে তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যালয়কে আরও আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন সভাপতি নজরুল ইসলাম।
এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের স্কুল পালানোর প্রবণতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করে দৈনিক গড় উপস্থিতি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের মান নিশ্চিত করতে পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী ও অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, “অতীতের অসম্পূর্ণ কাজগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কোকদণ্ডী গুনাগরী উচ্চ বিদ্যালয়কে বাঁশখালী উপজেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আমার মূল লক্ষ্য। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা পর্ষদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে বিদ্যালয়টিকে একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করতে চান।
নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।