
নিজস্ব সংবাদদাতা:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাষাবাদের জমিতে কোমরসমান পানি জমে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোকদণ্ডী হাছিয়াপাড়া এলাকার কৃষকরা। দীর্ঘদিন ধরে জমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ শুরু করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোকদণ্ডী হাছিয়াপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জমিতে পানি জমে থাকার এমন চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব পাহাড়ি এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ওই এলাকায় একটি প্রাকৃতিক ছড়া রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছড়াটির বিভিন্ন অংশ দখল ও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে পাহাড়ি ঢলের পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে পানি উপচে আশপাশের কৃষিজমিতে ঢুকে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে।
পানি দ্রুত সরানোর জন্য কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে তিন-চারটি পাম্প মেশিন বসিয়ে পানি অপসারণের চেষ্টা করছেন। এতে প্রতিদিন বাড়তি অর্থ ব্যয় হলেও জমি থেকে পুরোপুরি পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক মো. নুরুল আবছার, মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, মো. সরওয়ার ও আবু তাহের বলেন, “আমরা ধারদেনা করে অন্যের কাছ থেকে লাগিয়ত হিসেবে জমি নিয়েছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুই বেলা দুমুঠো খাবারের আশায় এসব জমিতে চাষাবাদ করি। কৃষিকাজ ছাড়া আমরা তেমন কোনো কাজ জানি না।”
তারা বলেন, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমি লাগিয়ত হিসেবে নিয়েছি। কিন্তু জমিতে পানি জমে থাকায় এখনো চাষাবাদ শুরু করতে পারিনি। সময়মতো চাষ করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। একদিকে জমির খরচ, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি—এসব কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”
কৃষকদের দাবি, পানি চলাচলের প্রাকৃতিক ছড়াটি দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে জমিতে এভাবে পানি জমে থাকত না। দ্রুত ছড়াটি পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
কৃষকরা বলেন, পানি চলাচলের ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা গেলে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হবে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের জীবন-জীবিকা চালিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
এ বিষয়ে কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, “বিষয়টি আমি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি। আশা করছি, অতি শিগগিরই একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পাশাপাশি ছড়ার ওপর থাকা দখল ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।