1. news@hridoyechattogramsangbad.com : হৃদয়ে চট্টগ্রাম সংবাদ : হৃদয়ে চট্টগ্রাম সংবাদ
  2. info@www.hridoyechattogramsangbad.com : হৃদয়ে চট্টগ্রাম সংবাদ :
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতকানিয়ার নলুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে লেয়াকত আলী চেয়ারম্যানের  সার্বিক সহযোগিতায় শুকনো খাবার বিতরণ বোয়ালখালীর শাকপুরায় এমপি এরশাদ উল্লাহর পক্ষে ১৫০ পরিবারের মাঝে চাউল বিতরণ বন্যাকবলিত কালীপুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিএনপির উপহার সামগ্রী বিতরণ সাতকানিয়া স্টুডেন্ট ফোরামের উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে টিন ও ত্রাণ বিতরণ বন্যার্ত মানুষের পাশে মানবিক দৃষ্টান্ত: চন্দনাইশে ত্রাণ নিয়ে ছুটে চলেছেন ব্যবসায়ী জাকির হোসেন মীরসরাইয়ে ছয় মাসে ৫১ ট্রান্সফরমার চুরি, ট্রান্সফরমার চুরির মাশুল গুনছেন গ্রাহকেরা বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সী পয়েন্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্ট এর উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কোমর পানিতে নেমে পানিবন্দীদের পাশে দোহাজারী পৌর প্রশাসক, ঘরে ঘরে ত্রাণ বিতরণ বোয়ালখালীতে এমপি এরশাদ উল্লাহর পক্ষে চাউল বিতরণ বাঁশখালী সফরে আসছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন

মীরসরাইয়ে ছয় মাসে ৫১ ট্রান্সফরমার চুরি, ট্রান্সফরমার চুরির মাশুল গুনছেন গ্রাহকেরা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

রাজিব মজুমদার, মীরসরাই, চট্টগ্রাম:

গভীর রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায়, খুঁটির নিচে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের খোলস। ভেতরের তামার কয়েল নেই। এরপর শুরু হয় বিদ্যুৎ ফেরানোর অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা শেষ হলেও স্বস্তি মেলে না। নতুন ট্রান্সফরমার বসাতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদেরই গুনতে হয় হাজার হাজার টাকা।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে শত শত পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও খামারকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের আর্থিক বোঝা।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–৩–এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বারইয়ারহাট জোনে ৩১টি, মীরসরাই জোনে ১৪টি এবং সীতাকুণ্ড সদর দপ্তরের আওতাধীন কমলদহ থেকে নিজামপুর এলাকায় ছয়টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। অধিকাংশ ট্রান্সফরমারের ধারণক্ষমতা ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ কেভিএ।

পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে বারইয়ারহাট জোনে ১৩টি, মীরসরাই জোনে চারটি এবং সীতাকুণ্ড সদর দপ্তরের আওতাধীন এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। এবার ছয় মাসেই সেই সংখ্যা ৫১-এ পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা তামার কয়েল ও তারই চোরচক্রের মূল লক্ষ্য। ট্রান্সফরমার খুলে তামার অংশ নিয়ে গেলেও বাকি যন্ত্রাংশ ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয়। পরে এসব তামা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

চুরির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকেরা। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৫ কেভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএর ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএর ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ২৫ কেভিএর প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমারের মূল্যের ৫০ শতাংশ গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হয়। একই এলাকায় দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো মূল্যই বহন করতে হয় তাঁদের। ফলে অপরাধের শিকার হয়েও আর্থিক দায় থেকে মুক্তি মিলছে না গ্রাহকদের।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ সরকার বলেন, “ট্রান্সফরমার চুরির পর কয়েক দিন পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল। পরে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার যোগাযোগের পর নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হয়। একবার কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী পরিচয়ে এলাকায় এসেছিলেন। তাঁদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা আটকে বিদ্যুৎ অফিসে খবর দেন। পরে কর্মকর্তারা এসে তাঁদের চোর হিসেবে শনাক্ত করেন।”

সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা সাইফুর রহমান মিঠু বলেন, “ট্রান্সফরমার চুরির পর একটি মসজিদ, নূরানি মাদ্রাসা ও পোলট্রি খামার কয়েক দিন বিদ্যুৎহীন ছিল। পরে ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে নতুন ট্রান্সফরমার বসাতে হয়েছে। চুরির শিকার হওয়ার পরও কেন গ্রাহকদের টাকা দিতে হবে, সেটি বোধগম্য নয়।”

বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) হেদায়েত উল্যাহ বলেন, প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নজরদারি বাড়ালে এ ধরনের চুরি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–৩–এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আবদুল নুর বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েকটি ঘটনায় চোরদের হাতেনাতে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর বলে তিনি মনে করেন।

ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে না, একই সঙ্গে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপও তৈরি করছে। স্থানীয়দের দাবি, চোরচক্র শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাহলেই হয়তো ট্রান্সফরমার চুরির এই বাড়বাড়ন্ত কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট