
২০২৬ সালের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়লে হাজারো পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। এমন দুর্যোগের সময় যখন অসংখ্য মানুষ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়েন, তখন নীরবে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশ।
তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রবাসী ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করে সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের অসহায়, দরিদ্র ও বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে পৌঁছে দেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে তিনি নিরলসভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক পরিবারের মুখে হাসি ফোটান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মিল্টন বিকাশ দাশ শুধু একজন শিক্ষাবিদ নন, তিনি একজন মানবিক মানুষও। যে কোনো দুর্যোগ, বিপদ কিংবা সংকটে তিনি সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
তার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, তারা শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশকে শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, একজন অভিভাবক হিসেবে দেখেন। তাদের ভাষায়, “স্যার আমাদের নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করেন। আমাদের সুখ-দুঃখে, বিপদ-আপদে সব সময় পাশে থাকেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের চেয়েও গভীর।”
শিক্ষার্থীদের মতে, ২০০৩ সাল থেকে তারা দেখে আসছেন—মিল্টন বিকাশ দাশ নীরবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় মানুষের সহযোগিতায় তিনি কখনো প্রচার চান না; বরং মানবসেবাকেই নিজের দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য হিসেবে মনে করেন।
মানবিক মূল্যবোধ, সমাজসেবা এবং অসহায় মানুষের প্রতি তার এই নীরব অবদান সাতকানিয়ার মানুষের কাছে তাকে একজন অনুকরণীয় শিক্ষক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।