
হাফিজুর রহমান খান, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার টার্গেটে পড়েছেন মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), রামু থানা। অভিযোগ উঠেছে, তাকে সরাতে কোটি টাকার ‘মিশন’ নিয়ে সক্রিয় হয়েছে একটি প্রভাবশালী ইয়াবা গডফাদার সিন্ডিকেট।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, “যে কোনো মূল্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরাতে হবে” এমন লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে চক্রটি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে তদবির, গোপন লবিং এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও জনমনে সন্দেহ ছড়াতে পরিকল্পিত অপপ্রচারও চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রামুতে একের পর এক ইয়াবা চালান উদ্ধার এবং মাদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এই সিন্ডিকেট। ফলে নিজেদের অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা এখন প্রশাসনের মূল নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সরানোর বিষয় নয়; বরং চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের গতি থামিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা। তাদের মতে, এই অপতৎপরতা সফল হলে পুরো এলাকায় মাদক ব্যবসা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, যারা মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিশ্চিত না করা গেলে এই লড়াই দুর্বল হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, রামুর বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মাদকবিরোধী অভিযান এখন শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি একটি শক্তিশালী অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই। এ অবস্থায় প্রশাসনের দৃঢ়তা, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাই হতে পারে সংকট মোকাবেলার প্রধান উপায়।
স্থানীয়দের জোর দাবি, কোনো চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে মাদকচক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যথায় কোটি টাকার এই অন্ধকার অর্থনীতির কাছে আইনের শাসন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।