
রাজিব মজুমদার, মীরসরাই, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া ট্রাকটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—মো. রিয়াদ হোসেন, ট্রাকের হেলপার মো. হাদিছ মোল্লা এবং আবুল বাশার ওরফে বাঁশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানোর সময় রডগুলো চুরি হয়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার রাসেল পিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল্লাহ আল মাসুদ, এসআই মো. সাদ্দাম হোসেন, এএসআই মো. ইসমাইলসহ পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট বারইয়ারহাট এলাকা থেকে রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকের হেলপার মো. হাদিছ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মহম্মদপুর থানার জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আবুল বাশারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহম্মদপুর বাজারের ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রডবিহীন অবস্থায় চুরি যাওয়া ট্রাকটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় জোরারগঞ্জ থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল পিপিএম (বার) বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঘটনার পরপরই চুরি যাওয়া রড উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে রড উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী ও জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।