
হাজারো প্রতিযোগীর ভিড়ে মেধার অসাধারণ দীপ্তি ছড়িয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন চন্দনাইশের কৃতি শিক্ষার্থী মেহজাবিন নুর কাইনাত। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বৃত্তি ২০২৫ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এই খুদে শিক্ষার্থী নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন এবং পুরস্কার হিসেবে লাভ করেন একটি ল্যাপটপ, যা তার মেধার বড় স্বীকৃতি।
চট্টগ্রাম মহানগরীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুলের ছাত্রী মেহজাবিন (রোল: CM-২৬৬৮, রোল নম্বর: ২৬৬৮) বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জীবনী ও কর্ম—এই বহুমাত্রিক ভিন্নধর্মী বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। ফল প্রকাশের পর জানা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রো, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার অংশগ্রহণকারী হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী তিনিই।
আল-আমিন সংঘ আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর আনন্দে ভাসে মেহজাবিনের পরিবার, স্কুল ও শিক্ষক সমাজ।
বৃত্তি পরীক্ষার পরিচালক জহির উদ্দিন মজুমদার এবং আল-আমিন সংঘের চেয়ারম্যান তার সাফল্যে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এতো অল্প বয়সে বহুমুখী বিষয়ের ওপর এমন দখল ও পরিপক্বতা বিরল। মেহজাবিন ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য বড় অবদান রাখবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস।”
মেহজাবিনের সাফল্যের খবরে বাবা-মায়ের চোখে বইছে গর্বের জলছবি। তারা জানান, মেয়ের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও শেখার প্রবল আগ্রহই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।
শিক্ষক-শিক্ষিকারাও মনে করেন, “এই পুরস্কার শুধু একটি ল্যাপটপ নয়—এটি তার স্বপ্নযাত্রার প্রথম মাইলফলক।” ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার পথে এই ল্যাপটপ তার মেধা বিকাশ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী শিক্ষা ও জাগরণের অগ্রদূত। তার নামাঙ্কিত বৃত্তি পরীক্ষায় একজন ক্ষুদে শিক্ষার্থীর সেরা সাফল্য নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনা ও আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করছে।
মেহজাবিন নুর কাইনাতের এই অর্জন শুধু চন্দনাইশ বা চট্টগ্রামের নয়—এটি পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য গল্প, যা প্রমাণ করে:
দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও শেখার আগ্রহ থাকলে অল্প বয়সেই বড় অর্জন সম্ভব।