
নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত স্রোতস্রীনি সর্তা খালের তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দশকে খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট। অব্যাহত ভাঙনে অনেক পরিবার নিজেদের বসতভিটে হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেউবা আবার ভাঙনের ফলে বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটে ছেড়ে অন্যত্র বসতি গড়েছে।
স্থানীয়দের দাবী, নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে সাতশ মিটার ইউটার্ণ করে বাঁক নেওয়া খালের অংশটিই এখন স্থানীয়দের ভোগান্তির মূল কারণ। বাঁকটি কেটে সোজা করে দিলে অন্তত ৩০/৩৫ পরিবার ভিটে হারানোর শংকা থেকে রক্ষা পাবে।
খালের ভাঙন থেকে রক্ষায় স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের সর্তা খালের ভয়াবহ ভাঙনে স্থানীয়দের জনজীবন হুমকির মুখে। বসতবাড়ির পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতিসাধন হওয়ায় যান বাহন চলাচল দূরে থাক, পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও দুর্গতির সীমা থাকেনা এই এলাকার নারী-পুরুষের।
ভাঙনের শিকার মিলন মাস্টার বাড়ির বয়োবৃদ্ধ নারী ঈষা দে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে খালের ভাঙন কবলিত দৃশ্য দেখিয়ে বলেন, সর্তা খালের বাঁক আমাদের নিঃস্ব করেছে। এখন বাঁকটি কেটে সোজা করা গেলে অন্তত ভাঙা কুটিরে জীবন পার করতে পারতাম।
এলাকার নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ সরোয়ার বলেন, সর্তা খালের বাঁকানো বাঁকটি এলাকার মানুষের জনমদুঃখ। বাঁকটি সোজা করা না হলে আরো অর্ধশতাধিক ভিটেমাটি খালে বিলীন হবে। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদকে অবহিত করতে এলাকার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জানিয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দশকে রাক্ষসী সর্তাখাল গিলে খেয়েছে নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে কয়েক শতাধিক পরিবারের বসতভিটা।
ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের হরেকৃষ্ণ মহাজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, এখানকার অনিল নাথ, রাদাশাম, পরেশ, রাখাল, পূর্ণ, গোবিন্দ নাথ, সজল নাথ, চন্দন নাথ, কাজল নাথসহ শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে খালের ভাঙনে। বিলীন হয়েছে ১৬/১৭ কানি ফসলি জমি।
স্থানীয় বাসিন্ধা সুবেল নাথ, সজল নাথ আক্ষেপ করে বলেন, বছরের পর বছর যায়, আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়না। সর্তা খালের বাঁকা বাঁকটিই যত দুঃখের কারণ। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। স্থানীয় সাংসদ এলাকার মানুষের জনদূর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসলে অন্তত নিজেদের পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি বিজড়িত ভিটেমাটি রক্ষা পাবে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের আকুতি, বর্ষা মৌসুম আসন্ন। বর্ষাকালে সর্তাখাল তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। পাহাড়ি ঢলে আর কত অসহায় মানুষের স্বপ্ন বিলীন হবে! অচিরেই বাঁক কেটে সোজা করার উদ্যোগ নিয়ে ভিটেবাড়ি, কৃষি জমি আর চলাচলের সড়ক রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নেবেন এমন আশা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন নোয়াজিষপুর এলাকার সর্তাখালপাড়ের বাসিন্দারা।