মোহাম্মদ এরশাদ বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়িতে মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান-উল-কবির চৌধুরীকে আসামি করার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পুঁইছড়ি এলাকায় একটি মার্কেটের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মামলা ও আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে ওই মামলায় সাবেক এমপি সুলতান-উল-কবির চৌধুরীর নাম আসামি হিসেবে রয়েছে—এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ, সাবেক এই সংসদ সদস্য ২০১৪ সালের ৩০ জুন মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তাঁর মৃত্যুর প্রায় ১৩ বছর পর সংঘটিত ঘটনার মামলায় তাঁকে আসামি করার খবর নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে পুলিশের বক্তব্যে বিষয়টি ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক জানান, গতকাল পুঁইছড়িতে মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাবেক এমপি সুলতান-উল-কবির চৌধুরীকে আসামি করে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি রবিউল হক বলেন, “সুলতান-উল-কবির চৌধুরীকে আসামি করে মামলার বিষয়ে আমি অবগত নই। বাঁশখালী থানায় এ ধরনের কোনো মামলা হয়নি।”
পুলিশের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো মামলার সঙ্গে তথ্যটি গুলিয়ে গেছে—তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, পুঁইছড়ির মারামারির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাবেক এমপির নাম-সংক্রান্ত তথ্যের উৎসও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।