বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা শেষ হলেও কাবাডি ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই খেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাচ কর্মকর্তা না থাকায় ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
রোববার দিনব্যাপী উপজেলার কালীপুর এজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ও বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুই ভেন্যুতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার মহিলা বিভাগের কাবাডি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। ফাইনালে বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও নাসারা খাতুন রাজকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। ম্যাচে বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়।
তবে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে পরাজিত দলের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, কাবাডির মতো গুরুত্বপূর্ণ দলীয় খেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাচ কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও ছয়জনের পরিবর্তে মাত্র একজন রেফারি দিয়ে ফাইনালসহ অন্যান্য ম্যাচ পরিচালনা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একজন রেফারির পক্ষে মাঠের বিভিন্ন পরিস্থিতি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করে সব সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন। ম্যাচ পরিচালনার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। তাদের দাবি, ম্যাচ পরিচালনার এই সীমাবদ্ধতার কারণে খেলার ফলাফলেও প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, বালক বিভাগের কাবাডি ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কালীপুর এজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অংশ নেয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রেফারির সিদ্ধান্ত ও সার্বিক ম্যাচ পরিচালনার কারণে তারা পরাজিত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “প্রতিবছর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য আমরা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা করে দিয়ে থাকি, যাতে প্রতিযোগিতা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় হলে আমাদের অনেক সময় কিছু বলার থাকে না। শিক্ষক হিসেবে আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে থাকি।”
তিনি আরও বলেন, “কাবাডির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রেফারি না থাকা দুঃখজনক। খেলা দেখতে আসা একজন ক্রীড়া সংগঠককে ডেকে এনে কাবাডি ম্যাচ পরিচালনা করতে হয়েছে—বিষয়টি দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন নির্ধারিত নিয়ম ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। বিশেষ করে কাবাডির মতো জাতীয় খেলার ম্যাচে প্রশিক্ষিত ও নিরপেক্ষ রেফারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাদের আরও দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশিক্ষিত রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তা নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় আয়োজক কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।