মোহাম্মদ এরশাদ, বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পূর্ব দিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড় ধসের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগে অন্তত চার হাজারের বেশি বসতঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড় ধস ও প্রবল বর্ষণের কারণে আব্দুর রহিম, মনোয়ারা বেগম, দিলুআরা বেগম, মো. সেলিম, আজিজ আহমদ, আবছার, মোজ্জাফর আহমদ, রতন দাশ ও মহিউদ্দিনের বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আরও অন্তত চার হাজারের বেশি বসতঘর ধসে পড়ে বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানান, আকস্মিক এই দুর্যোগে তাদের ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার বর্তমানে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে কালিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, "টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে আমাদের ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০টির বেশি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করছি এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। গতকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও খাদ্যসহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও কাটেনি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।