চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার অসহায় দিনমজুর এয়াকুব মিয়া (৫২) দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার পরিবারের আর্তনাদ—“এয়াকুবকে বাঁচাতে মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
হৃদয়ে চট্টগ্রাম সংবাদ ও চট্টগ্রাম লাইভে প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসার পর হৃদয়ে চট্টগ্রাম সংবাদ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সাকের আহমেদ বাবু এবং চন্দনাইশ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দোহাজারী পৌরসভার একটি বাঁশঝাড় ঘেরা জরাজীর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন এয়াকুব মিয়া। প্রায় চার মাস আগে তিনি জানতে পারেন যে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ব্যথা, খেতে না পারা, কোমরের যন্ত্রণা, হাঁটাচলা ও বসতে কষ্টসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি। দিনমজুরি করে জমানো প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা চিকিৎসায় ব্যয় করেও সুস্থ হতে পারেননি। বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী।
এয়াকুব মিয়ার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়ে। এর মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। চিকিৎসকদের মতে, তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।
এ সময় চন্দনাইশ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে এয়াকুব মিয়ার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহাজারী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাওলানা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, চন্দনাইশ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এমএ হামিদ, সাংবাদিক জাবের বিন রহমান আরজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিন উল্লাহ টিপু, সাংবাদিক নজরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এলাকাবাসীর একটাই আবেদন— “আসুন, সবাই মিলে এয়াকুব মিয়ার পাশে দাঁড়াই। আপনার সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারের হাসি।