নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম):
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রাণ হলো শিক্ষার্থীরা। আর সেই শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের যাতায়াত ও তীব্র পরিবহন সংকটে সময় মত ভার্সিটিতে পৌঁছানোর দুর্ভোগে ভুগতে হয় বেশী। এই সমস্যার সম্মুখিন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল চুয়েটের এই পরিবহন সংকট দূর করতে এক মহতী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট দূর করতে এবং সময়মত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিতে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিজের গড়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলহাজ জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের নতুন মডেলের ৪ টি বড় বাস প্রদান করছেন এই প্রবাসী ব্যবসায়ী। প্রতিটি বাসে ৭২ জন শিক্ষার্থীর বসার জন্য আসন থাকবে।
এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চুয়েটের সিন্ডিকেট কক্ষে চুয়েট ও আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশনের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সভায় জানানো হয় বর্তমানে চুয়েটের তীব্র পরিবহন সংকট দুর করতে এই চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত বাসসমূহ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে চুয়েট কর্তৃপক্ষ।
চুয়ের কর্তৃপক্ষ জানায়- শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে একটি সুনির্দিষ্ট ও দুশ্চিন্তামুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। পরিবহন সংকটও চুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা ছিল। যা তাদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। এখন জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন থেকে ৪ টি বাস উপহার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সেই সংকট আর দুশ্চিন্তা আর থাকছেনা।
এই সভায় বক্তারা জানান- এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন সাহেব শিক্ষার অগ্রগতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। একযোগে ৪টি বাস চুয়েটকে প্রদান করার যেই চুক্তিতে তিনি স্বাক্ষর করলেন তাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছাস তৈরী হয়েছে। তার এই সময়োপযোগী ও উদার উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস জীবনকে অনেক বেশি সহজ, নিরাপদ ও গতিশীল করে তুলবে। শিক্ষার উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের কল্যাণে তার এই নিঃস্বার্থ অবদান প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন সফল ব্যক্তিত্বই নন, বরং একজন দূরদর্শী ও সমাজ ও শিক্ষা সচেতন মানুষ।
পাশাপাশি চুয়েট পরিবারের প্রতি তার এই ভালোবাসার স্মারক শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন সাহেবের এই মানবহিতৈষী কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার প্রতি অনুরাগ সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক অনুকরণীয় অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর (উপাচার্য) অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে চুয়েটের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এবং আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে চুয়েটের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, পরিবহন দপ্তরের পরিচালক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ এবং ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর এর সহকারী—পরিচালক মোঃ মাসুম রানা প্রামানিক।
আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশন এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের ভাইস—চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের উদ্দিন তানসি, আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আলহাজ্ব মোক্তার আহমেদ, নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মাস্টার, সাংবাদিক এস এম ইউসুফ উদ্দিন, মেঘনা ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ বেলাল প্রমুখ।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপ—পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন ও এস্টেট) এস. এম. মোখতারুল মোস্তফা, সহকারী রেজিস্ট্রার (আইন ও এস্টেট) মো: জোবায়ের হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা আইদিত ইবনে মঞ্জু সহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠান শেষে চুয়েটের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা সরুপ আলহাজ জসিম উদ্দিন ও তার জেষ্ঠ ছেলে মোহাম্মদ জোবায়ের উদ্দিন তানসির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া।