চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার জামিরজুরী এলাকায় অবস্থিত -এর কার্যকরী পরিষদের বিরুদ্ধে আশ্রমের বহিষ্কৃত সেবায়েত রাখাল ব্রহ্মচারী ও তার বোন রুপনা রানী দাশের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মিথ্যা মামলা এবং আশ্রমবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (১১ মে) বিকালে জামিরজুরী শ্রীকৃষ্ণ গীতা আশ্রম প্রাঙ্গণে আশ্রমের কার্যকরী পরিষদ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আয়োজকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে অবহেলা, অর্থনৈতিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলন এবং আশ্রমবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে আশ্রমের সাবেক সেবায়েত রাখাল ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ ও কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৪ সালে তাকে সেবায়েতের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বক্তারা আরও জানান, বহিষ্কারের পর ক্ষুব্ধ হয়ে রাখাল ব্রহ্মচারী আশ্রমের কার্যকরী পরিষদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে পরিষদের ছয় সদস্যকে আসামি করা হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর মামলা চলাকালে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আশ্রমে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্ত ও পূণ্যার্থীদের থাকার সুবিধার্থে সাধু নিবাস নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু ওই নির্মাণকাজে বাধা প্রদান এবং সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে রাখাল ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে নির্মাণকাজ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কার্যকরী পরিষদের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয় বলেও দাবি করেন বক্তারা।
তারা জানান, অভিযোগ তদন্তের জন্য দোহাজারী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও অভিযোগকারী রাখাল ব্রহ্মচারী সেখানে উপস্থিত হননি।
এছাড়াও বহিষ্কৃত সেবায়েতের বোন রুপনা রানী দাশ আশ্রমে অবৈধভাবে অবস্থান করে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আশ্রমের কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আশ্রমের কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বপন কান্তি দাস, রাজিব চক্রবর্তী, তপন দাস, নয়ন ভট্টাচার্য, উত্তম সেন, স্বপন লাল তেওয়ারি, মনোজ কান্তি ঘোষ, প্রদীপ দাস সুমন, লিটন চক্রবর্তী, অনিল মল্লিক, পিয়াল তালুকদার, কানু সিকদারসহ কার্যকরী পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।