বাবর মুনাফ, বোয়ালখালী প্রতিনিধি: বোয়ালখালীতে শিকলে বেঁধে তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার গেগেনার ত্রিপুরা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার একটি ঘর থেকে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
গেগেনার ত্রিপুরা বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার জৈতুনপাড়া এলাকার লাফেহা ত্রিপুরার ছেলে। তিন কন্যাসন্তানের জনক গেগেনার নগরীতে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার স্ত্রী একজন পোশাক শ্রমিক।
ভুক্তভোগী জানান, গত ১৯ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে বোয়ালখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি ঘরে কোমরে শিকল বেঁধে তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। আটক অবস্থায় সামান্য পানি দেওয়া হতো, বেশি পানি চাইলে প্রস্রাব খাওয়ানোর চেষ্টা করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চিৎকার করতে না পারার জন্য তার মুখে টেপ লাগিয়ে রাখা হয়েছিল।
গেগেনার ত্রিপুরা আরও বলেন, নগরীতে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় আব্দুল করিম ইমন নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিন মাস আগে ইমনের মোবাইলে গান শোনার সময় এক ব্যক্তি জরুরি কল করার কথা বলে মোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই ওই মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছিল ইমন ও তার সহযোগীরা।
তার দাবি, ১৯ জানুয়ারি আগ্রাবাদে রিকশা চালানোর সময় ১০–১২ জন যুবক তাকে মারধর করে চোখ বেঁধে সিএনজিতে তুলে নেয়। পরে মোবাইলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং মুক্তিপণ হিসেবে আরও ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
স্বামীকে মুক্ত করতে গেগেনারের স্ত্রী ধারদেনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করেন। এদিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুফিয়ান সিদ্দিকী জানান, গেগেনারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুলিশ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার রুস্তম মাঝি বাড়ির মৃত আবদুল কুদ্দুছের ছেলে আব্দুল করিম (২৭) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলী বাড়ির মৃত আবুল কাসেমের ছেলে মো. মঈন উদ্দিনকে (২৬) আটক করেছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আজ তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।