আনোয়ারা প্রতিনিধি :আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া এলাকায় জায়গা জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আকতারুজ্জামান বাবু বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী আকতারুজ্জামান বাবু ও তার পরিবার তাদের বৈধ মৌরশী সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলে রয়েছেন। কিন্তু প্রতিবেশী মোহাম্মদ কফিল, মোহাম্মদ হাকিম, আবুল কাসেম, দিলুয়ারা বেগম ও কুসুম আক্তার ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে নানান অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ-বৈঠক হলেও বিবাদীপক্ষ সিদ্ধান্ত মানেনি এবং উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ অব্যাহত রাখে।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি ঘরের উঠানে ধান মেশিনে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বিবাদী আবুল কাসেম ও দিলুয়ারা বেগম গালিগালাজ করলে তিনি প্রতিবাদ জানান। সঙ্গে সঙ্গে পূর্বে উৎপেতে থাকা কফিল, হাকিম, কুসুমসহ অন্যরা লোহার রড, ছোরা ও লাঠিসোটা নিয়ে উঠানে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও গুরুতর জখম হয়।
চিৎকার শুনে বাদীর মা ছালেহা খাতুন (৫০), বাবা আব্দুস সুবহান (৬৫) ও বোন হামিদা আক্তার (২৫) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছালেহা খাতুনের বাম হাতের বাহু থেতলে যায়। হাকিমের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে বয়স্ক আব্দুস সুবহান হাড়ভাঙাসহ রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হন। আবুল কাসেম গাছের বাটাম দিয়ে বাদীর পিঠ ও কোমরে আঘাত করেন এবং হাকিম তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। দিলুয়ারা বেগম ও কুসুম আক্তার লাঠিসোটা দিয়ে হামিদা আক্তারকে মারধর করেন।
হামলার এক পর্যায়ে বিবাদীপক্ষ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জানায়, আইনের আশ্রয় নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
বাদী জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র পুলিশকে জমা দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।